স্বপ্নদোষ (Nocturnal Emission) একটি শারীরিক অবস্থা, যেখানে পুরুষরা ঘুমানোর সময়, সাধারণত স্বপ্ন দেখার পর বা যৌন স্বপ্ন দেখে, অজান্তেই বীর্যপাত ঘটে। এটি একটি প্রাকৃতিক শারীরিক প্রক্রিয়া এবং অনেক পুরুষের জীবনের একটি সাধারণ অংশ, বিশেষ করে কিশোর বয়সে বা যৌবনে।
কারণ:
স্বপ্নদোষ সাধারণত বিভিন্ন শারীরিক এবং মানসিক কারণে ঘটে, যা প্রধানত শারীরিক প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত। এর কিছু সাধারণ কারণ হলো:
- হরমোনাল পরিবর্তন: বিশেষত কিশোর বয়সে পুরুষদের শরীরে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে, যা স্বপ্নদোষের জন্য প্রধান কারণ।
- যৌন উত্তেজনা: শরীরের মধ্যে যৌন উত্তেজনা বা যৌন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে স্বপ্নদোষ ঘটতে পারে।
- স্বপ্ন বা মস্তিষ্কের কার্যক্রম: যৌন বিষয়ক স্বপ্ন বা ভাবনা থেকে বীর্যপাত হতে পারে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ঘটে।
- শরীরের অবস্থা: শরীরের অতিরিক্ত উত্তেজনা, যৌন ক্ষুধা বা অন্যান্য শারীরিক কারণও স্বপ্নদোষ ঘটাতে পারে।
- মানসিক চাপ বা উদ্বেগ: মানসিক চাপ বা উদ্বেগের কারণে কখনও কখনও স্বপ্নদোষ ঘটে।
লক্ষণ:
স্বপ্নদোষের লক্ষণ হলো:
- ঘুমানোর সময় অজান্তে বীর্যপাত হওয়া: এটি সাধারণত রাতে ঘুমানোর সময় ঘটে এবং পুরুষ বুঝতে পারেন না, কিন্তু পরবর্তীতে বিছানায় সাদা দাগ বা তরল দেখতে পাওয়া যায়।
- যৌন স্বপ্ন বা স্বপ্নের কারণে উত্তেজনা: এই সময় যৌন স্বপ্ন দেখা বা কোনো যৌন বিষয়ক ভাবনা হওয়া।
- কিছু শারীরিক লক্ষণ: সাধারণত কোনো শারীরিক কষ্ট বা অস্বস্তি অনুভূত হয় না, তবে মাঝে মাঝে শরীর কিছুটা শিথিল বা ক্লান্ত অনুভব হতে পারে।
প্রতিকার:
স্বপ্নদোষ একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া, এবং এটি কোনো রোগ নয়। তবে, কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষত যদি এটি খুব বেশি পরিমাণে ঘটে বা অতিরিক্ত উদ্বেগ সৃষ্টি করে, তখন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:
- নির্দিষ্ট সময় ঘুমানো: সঠিক পরিমাণে ঘুমানোর মাধ্যমে শরীর এবং মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয়া যেতে পারে, যা স্বপ্নদোষের ঘটনা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
- শারীরিক ব্যায়াম: নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের অতিরিক্ত উত্তেজনা কমে যেতে পারে এবং মানসিক চাপও হ্রাস পায়।
- ধ্যান বা relaxation techniques: মানসিক শান্তি অর্জন করতে ধ্যান বা অন্যান্য শিথিলকরণ পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে, যা উদ্বেগ কমাতে সহায়ক।
- মনোযোগীতা: যৌন বিষয়ক অতিরিক্ত চিন্তা বা স্বপ্ন এড়িয়ে চলার জন্য মনোযোগী হওয়া যেতে পারে।
- ডাক্তারের পরামর্শ: যদি খুব বেশি সমস্যা হয় বা স্বপ্নদোষ নিয়ে উদ্বেগ থাকে, তবে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভালো।
স্বপ্নদোষ সাধারণত কোন শারীরিক সমস্যা নয় এবং এটি সুস্থ শারীরিক অবস্থার অংশ হিসেবে স্বাভাবিকভাবে ঘটে। তবে, যদি এটি অত্যধিক বা সমস্যাজনক হয়ে ওঠে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।